মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানে আবারও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প।

এদিকে, ইরান প্রস্তাব দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো মেনে নিলে ৭ দিনের মধ্যে কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। একই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

জাতিসংঘে শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান একটি নির্দিষ্ট ৭ দিনের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব। তবে চাপ, হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ইরানের সার্বভৌম অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আরাগচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে আন্তরিক হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইরানের রয়েছে।

এর বিনিময়ে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরানের নতুন প্রস্তাবটি জুনে হওয়া একটি চুক্তির সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে। গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফা একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য কাজ করার কথা ছিল। তবে ৮ জুলাই ট্রাম্প জানান, চুক্তিটি আর কার্যকর নেই। এর এক সপ্তাহ পর ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সমঝোতা স্থগিত করে।

এরপর থেকে ট্রাম্প বলে আসছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না।

এদিকে, হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থানের ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি