চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’ ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী স্টেশনের সাগর উপকূলবর্তী ওই ইয়ার্ডে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ইয়ার্ড ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, বন্ধের দিনে জাহাজের ট্যাংকে গ্যাস লিকেজ হলে উৎসুক লোকজন সেখানে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশ থেকে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
সীতাকুণ্ড থানা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইয়ার্ডের ভেতরে দুজন এবং চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও মৃত অবস্থায় আনা আরও ছয়জনসহ মোট আটজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় মিলেছে—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই ভাই মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বিষাক্ত গ্যাসের ঝাঁজালো গন্ধ সাগরের দূরবর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা জানান, গন্ধের কারণে উপকূলের আধ কিলোমিটারের মধ্যে তাঁরা নৌকা ভেড়াতে পারেননি। এদিকে জাহাজে মর্মান্তিক নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ইয়ার্ডে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান জানান, জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং ইয়ার্ডটিতে শ্রমিকদের সঠিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।





মন্তব্য করুন