পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার নারী এজেন্টের পাতা ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে পড়ে দেশের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) ৪৪ বছর বয়সী এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লির বিশেষ পুলিশ ও বিমানবাহিনীর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স উইং যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত এই শীর্ষ কর্মকর্তা বর্তমানে দিল্লির তিহার কারাগারে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই দিল্লির একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পাকিস্তানি নারী এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় বিমানবাহিনীর ওই উইং কমান্ডারের। ধীরে ধীরে তা নিয়মিত মেসেজিং ও ভিডিও কলে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ওই নারীর প্ররোচনায় ভারতের কৌশলগত ও সংবেদনশীল সামরিক তথ্য ফাঁস করে দেন অভিযুক্ত পাইলট। বিষয়টি বিমানবাহিনীর নজরে আসামাত্রই কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স শাখা পুলিশকে অবহিত করে এবং আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মজার বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের পর থেকে ওই পাইলট জামিনের কোনো আবেদন জানাননি।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, অভিযুক্ত কর্মকর্তা পাকিস্তানি এক বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কবলে পড়েছিলেন। বর্তমানে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপসের প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গ্রেপ্তার পাইলট তাঁর এক সহকর্মীকেও ওই বিতর্কিত অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করতে বলেছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই ক্ষতিকারক অ্যাপটির মাধ্যমেই পাইলটের ব্যক্তিগত মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ ও সংবেদনশীল ডেটার অ্যাকসেস নিয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাটি।





মন্তব্য করুন