মাগুরায় রাতের আঁধারে কৃষকের বাগানের ১ হাজার ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। । ঋণ ও ধারদেনা করে গড়ে তোলা কলাবাগানের সব কলা গাছ কেটে ফেলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক জয়দার শেখ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার শেখ উপজেলার পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, পাল্লা গ্রামে বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্তানসংলগ্ন প্রায় ১০০ শতক জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে কলাবাগান গড়ে তুলেছিলেন কৃষক জয়দার শেখ। এনজিওসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাগানটির পরিচর্যা করছিলেন। গাছগুলোতে কলা আসতে শুরু করেছিল। কিছু গাছে ফলও ধরেছিল। আর কিছুদিন পর কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে এক রাতেই। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাগানের প্রায় এক হাজার কলাগাছ কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। এতে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
ভুক্তভোগী কৃষক জয়দার শেখ বলেন, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে বাগানটি গড়ে তুলেছিলাম। আর কিছুদিন পরই কলা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত আমার সব শেষ করে দিয়েছে। এখন কিস্তি দেব কী দিয়ে, পরিবার নিয়ে খাব কী– বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কলা ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় এক কলা ব্যবসায়ী বলেন, এই বাগান থেকে কলা কিনে ঢাকায় পাঠাতাম। কলা বিক্রি করে যে লাভ হতো, তা দিয়ে সংসার চালাতাম। বাগানের কলাগাছগুলো কেটে ফেলায় কৃষকের পাশাপাশি আমাদেরও ক্ষতি হয়েছে। এমন ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম নবী বলেন, ঋণ ও ধারদেনা করে জয়দার বাগানটি করেছিলেন। ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলায় তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ বলেন, কলাগাছ কাটার ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।





মন্তব্য করুন