https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ও একের পর এক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব হিসেবে দেশটির সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। বুধবার (৬ আগস্ট) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, তালিকাভুক্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আর ব্যবসা বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত বিরোধকে আরও উসকে দিতে পারে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে ‘প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠান, একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স ফার্মসহ মোট সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানির ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে বেইজিং।
গত সপ্তাহে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ছয়টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে চীনের প্রতিরোধমূলক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপর একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়।
এফসিসি গত মাসে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীন থেকে নতুন ধরনের মানবিক রোবট ও চার পায়ের রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাল্টা হিসেবে চীন ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানির নিয়ম আরও কঠোর করেছে। পাশাপাশি মার্কিন বা বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারকারী সরকারি যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কিছু যৌথ উৎপাদন ও সরবরাহ তদারকি কার্যক্রমও স্থগিত করেছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক পদক্ষেপের জবাবে বেইজিংয়ের সামনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ প্রত্যাহার, ভুল নীতি থেকে সরে আসা এবং স্থিতিশীল ও গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলে চীন আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে কয়েকটি চীনা শিপিং অপারেটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এছাড়া দুটি শীর্ষস্থানীয় বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পেন্টাগনের কালো তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুই দেশই নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: এপি ও সিএনএন।


