https://asia24.tv


এলপিপি ছবি: -সংগৃহীত
প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) ডলারের বকেয়া রেভে বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছে পোল্যান্ডের পোশাক জায়ান্ট এলপিপি। পণ্যমূল্য পরিশোধ নিয়ে দেশীয় পোশাক রপ্তানিকারক ও বায়িং হাউসগুলোর সঙ্গে বিরোধের জেরে তারা এমনটি করলো বলে জানা গেছে।
গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের পাঠানো এক চিঠিতে পোলিশ কোম্পানিটি জানায়, ভবিষ্যৎ সোর্সিং কৌশল নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা চলাকালে তারা বাংলাদেশ থেকে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া এবং পণ্য উন্নয়নসংক্রান্ত কাজ বন্ধ রাখছে। এই সময়ে তারা বিকল্প দেশগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ও সোর্সিংয়ের সুযোগ মূল্যায়ন করবে বলে উল্লেখ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক রপ্তানিকারকের ধারণা, পাওনা আদায়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সরবরাহকারীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই এলপিপি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই অর্থপ্রদানসংক্রান্ত বিরোধে বাংলাদেশের প্রায় ৪০টি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও বায়িং হাউস সরাসরি যুক্ত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় পরিচালনাগত জটিলতা তৈরি হলে এলপিপি নিজস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তে এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে ক্রয়াদেশ দেওয়া ও অর্থপরিশোধের কৌশল নেয়। শুরুতে বিল নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও গত ১৮ মাস ধরে হুট করে অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি।
সরবরাহকারীদের অভিযোগ, এলপিপির দেওয়া শতভাগ নিশ্চয়তা ও বিক্রয় চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই তারা রুশ ক্রেতার কাছে কোটি কোটি টাকার পণ্য পাঠাতেন। কিন্তু চলতি বছরের শুরুর দিকে এলপিপি দাবি করে, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি সম্পর্ক নেই, যা নতুন সংকট তৈরি করে।
পাওনা না পাওয়ায় ইতোমধ্যে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। যেমন—হেজাজ সোয়েটার্স লিমিটেড কাঁচামাল ও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করে ৪৯ হাজার ডলারের পণ্য তৈরি করেও তা জাহাজীকরণ করতে পারেনি; পণ্যগুলো এক বছর ধরে গুদামে অলস পড়ে আছে। একই সঙ্গে শ্রাবণী নিটওয়্যার নামের আরেক প্রতিষ্ঠান ৭০ হাজার ডলারের পণ্য পাঠিয়েও কোনো বিল পায়নি এবং আরও ৩০ হাজার ডলারের তৈরি পণ্য গুদামে আটকে রয়েছে।
দীর্ঘদিন চিঠি ও ই-মেইল পাঠিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকেরা বাধ্য হয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে এলপিপি মামলা প্রত্যাহারের শর্তে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলে রপ্তানিকারকেরা আস্থা না পেয়ে কঠোর অবস্থান নেন।
বাংলাদেশ থেকে বছরে ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের পোশাক সংগ্রহ করা এই ক্রেতার বিষয়ে দেশের দুই প্রধান শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ক্রয়াদেশ দেওয়া বা না দেওয়া তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, তবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বকেয়া না মেটালে এলপিপিকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্টেড) করা হবে। এমনকি বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক ক্রেতা ফোরামেও আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হামিদ জানান, তারা বছরে ৭০ কোটি ডলারের একটি বড় বাজার হারাতে চান না, তবে কারখানাগুলোর সুরক্ষাও জরুরি। একপর্যায়ে এলপিপি ৫০ শতাংশ ছাড়ের মাধ্যমে বকেয়া মেটানোর অযৌক্তিক প্রস্তাব দিলেও কোনো রপ্তানিকারকের পক্ষে তা মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত এই বিরোধের কোনো সুরাহা না হওয়ায় পুরো পোশাক খাতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


