https://asia24.tv


শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে গতকাল ১ আগস্টের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: -সংগৃহীত
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মহেশখালীতে প্রস্তাবিত দেশের তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে উৎপাদিত সম্পূর্ণ গ্যাস কেবল শিল্প খাতেই সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি সহজে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে সকল ধরনের ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, ফলে আগামী চার বছরে এই আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় এফএসআরইউটি আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে পুনরায় চালু হতে পারে। এছাড়া গ্যাস সংকট জরুরিভিত্তিতে লাঘবে সরাসরি শিল্পে সরবরাহের জন্য ‘আইএসও কনটেইনারে’ এলএনজি আমদানির চিন্তাভাবনা চলছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ গতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস সেবাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ‘জরুরি সেবা’ হিসেবে ঘোষণা করে ২৪/৭ চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসিম মনজুর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি খাতের সংকট দূরীকরণে প্রস্তাব পেশ করেন। সরকার পোশাক খাতের বাইরে প্রতিটি সম্ভাবনাময় খাত থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার করে রপ্তানির লক্ষ্য ধরেছে এবং এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনামকে বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বগুড়াকে হালকা প্রকৌশল শিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তোলা, মুন্সীগঞ্জের এপিআই পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং সৌরবিদ্যুৎ মজুদের ব্যাটারি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। কৌশলগত ৫টি দেশের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা ফি মওকুফ এবং ই-ভিসা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতি দুই মাস পর পর এমন ফলোআপ সভা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের সরকারের বয়স এখনো ছয় মাসও হয়নি, তবে আমরা সমস্যা সমাধানে নিরলস কাজ করছি।” ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরকারের এই বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রশংসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।


