গ্রিসে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ দাবানলে ১২ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি ও কৃষিজমি পুড়ে গেছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গ্রিসের ন্যাশনাল অবজারভেটরির জলবায়ু পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেটিও ডট জিআর-এর প্রাথমিক হিসাবে, করিন্থ উপসাগরীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়া পৃথক কয়েকটি দাবানলে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দাবানল এথেন্সের কাছের জনপ্রিয় উপকূলীয় গ্রাম পোর্তো জারমেনোতেও ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার আগুন লাগার পর পোর্তো জারমেনোসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
মেটিওর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শুরুতে ক্রিট ও পারোস দ্বীপে লাগা দাবানলেও আরও প্রায় ৬ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। তবে ন্যাশনাল অবজারভেটরির দাবানল-বিষয়ক আবহাওয়াবিদ ও জ্যেষ্ঠ গবেষক থিওডোর জিয়ানারোসের ধারণা, শুধু পোর্তো জারমেনো এলাকার আগুনেই ১০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জিয়ানারোস বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডকে সম্ভবত ‘মেগা-ফায়ার’ বা অতি বৃহৎ দাবানল হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
এদিকে, প্রতিদিন একাধিক দাবানলের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে দমকল বাহিনীকে চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রী ইভানজেলোস টুরনাস জানিয়েছেন, দমকলকর্মীরা তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় কাজ করছেন।
এই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনকালে তিনজন দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন ক্রিট দ্বীপে এবং একজন পেলোপনিস অঞ্চলে মারা যান।
মন্ত্রী জানান, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দমকা হাওয়ার কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী বিমানগুলো পানি সংগ্রহ বা আগুনের ওপর পানি ছিটাতে পারছে না।
বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে বাতাসের গতি কিছুটা কমলেও রোববার বৃহত্তর এথেন্স, ভইওটিয়া ও এভিয়া দ্বীপকে সর্বোচ্চ দাবানল-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, এথেন্স থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পোর্তো জারমেনো এলাকায় প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। একই সময়ে উত্তর পেলোপনিসের আইজিয়ালিয়া এলাকায় আরেকটি দাবানল নেভাতে প্রায় ১০০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া শনিবার গভীর রাতে আয়োনিয়ান সাগরের সেফালোনিয়া দ্বীপেও নতুন করে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস বলেছেন, গ্রীষ্মের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনের তুলনায় বড় ধরনের দাবানল থেকে দেশটি কিছুটা রক্ষা পেলেও এখন সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উচ্চ তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরার প্রকোপ বাড়ছে। ফলে প্রতি গ্রীষ্মেই গ্রিসে ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি





মন্তব্য করুন