জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় রাকিবুল হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই মামলায় ঘটনার সত্যতা ও সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার ও ইলিয়াস মোল্লা প্রমুখ। অন্যদিকে, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ মেলায় সাবেক এমপি আনোয়ার হোসেন খান ও কামরুল আরেফিনসহ ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তা সহিংসভাবে দমনের অপচেষ্টা চালান। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতারা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা গোপনে বৈঠক করে রাজপথের ছাত্র-জনতাকে প্রতিহত করার উসকানিমূলক নির্দেশনা ও ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পৌঁছালে হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এতে গলার বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রাকিবুল হোসেন। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে নিহত রাকিবুলের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের আবেদন করে আদালত থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় অধিবাসীদের তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পরিশেষে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আদালতে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।