মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে মার্কিন দুটি গ্যাস ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত ‘সুমেদ’ পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ’ ও ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সৌদি আরব এতদিন সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগর রুটকে তাদের তেল রপ্তানির মূল ভরসা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। তবে সম্প্রতি মিশরের বন্দরে এই হামলার ঘটনায় বিকল্প এই রুটটিও এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, সুয়েজ রুটে বিঘ্ন ঘটলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ থমকে যাবে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে দক্ষিণমুখী (এশিয়াগামী) সৌদি তেলের প্রবাহ অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। ফলে এশিয়ার বাজারে তেল পৌঁছাতে এখন জাহাজগুলোকে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানি পৌঁছাতে আগের চেয়ে প্রায় এক মাস অতিরিক্ত সময় লাগছে, যা পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ‘কেপলার’ ও ‘ভোর্টেক্সা’ জানায়, হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এড়াতে জাহাজগুলো এখন কৌশল বদলে সুয়েজ খালের উত্তরমুখী রুটে ঝুঁকছে এবং অবস্থান লুকায়ে ট্র্যাকার বন্ধ রেখে চলাচল করছে। বর্তমানে সুয়েজ খালের প্রবেশমুখে বহু জাহাজ নোঙর করে অপেক্ষায় রয়েছে।

সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দাবি করলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই অঞ্চলে ঝুঁকি বাড়ায় বিমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ‘যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ দাবি করতে পারে। মিসরীয় বন্দরে জোড়া ড্রোন হামলাই প্রমাণ করে যে, লোহিত সাগর ও সুয়েজ সংলগ্ন অঞ্চলও এখন হামলাকারীদের নাগালের মধ্যে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারগুলো পূর্ণ লোড নিয়ে সরাসরি সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে পারে না। তাদের সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল খালাস করে ভূমধ্যসাগরে গিয়ে তা আবার জাহাজে তুলতে হয়। এই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাঝে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ায় পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবাল ও কেপলারের মতে, হরমুজ ও বাব আল-মানদেবের পর এখন যদি সুয়েজ খালের কার্যক্রমেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে লাফিয়ে বাড়বে। এর ফলে সৃষ্ট পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির সরাসরি প্রভাব পড়বে এশিয়াসহ সারা বিশ্বের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।