রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার জেরে সৌদি আরবগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। ছুটিতে এসে অনেকে কাজে ফিরতে পারছেন না, আবার নতুনদের যাত্রাও থমকে গেছে। দীর্ঘদিনের নির্ভরতার বড় শ্রমবাজারটিতে এই নতুন ধাক্কা দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে বড় প্রভাব ফেলছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের অন্তত ৬১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী আটকে পড়েছেন। ফ্লাইট স্থগিত থাকার কারণে দিনে গড়ে ১ হাজার ২০০ নতুন কর্মী ও ৬০০ থেকে ৭০০ ছুটি কাটিয়ে ফেরা কর্মী যাত্রাসংকটে পড়েছেন। এভাবে অচলাবস্থা চলতে থাকলে আটকে পরা প্রবাসীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র কমছে প্রায় ৩২ শতাংশ। এককভাবে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এই হার কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ১৫ বছরে মোট প্রেরিত কর্মীদের প্রায় ৭৯ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বিকল্প শ্রমবাজার তৈরি না হওয়ায় যেকোনো আঞ্চলিক সংঘাত বা প্রশাসনিক বিধিনিষেধ বড় ধরনের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানরত অনেক কর্মী ফ্লাইটের তথ্য ও বিকল্প উপায়ের খোঁজে প্রহর গুনছেন। অনেক কর্মীর ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অতীতের বিভিন্ন সংকটের মতো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আটকে পড়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং বিকল্প উপায়ে পাঠানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে বছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কিছুটা অনিশ্চিত হলেও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং আটকে পড়া কর্মীদের পুনর্যাত্রায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ খাতের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।