https://asia24.tv


বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: -ফাইল ছবি
ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে যুগান্তকারী নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয় ও সেবা খাতের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
নতুন নির্দেশনায় প্রথাগত কাগজপত্রের জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে সেবা রপ্তানির অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে চিরাচরিত রপ্তানি ফরম (এক্সপোর্ট ফর্ম) বাধ্যতামূলক নয়; বরং ইনভয়েস, ই-মেইল কিংবা প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্টের মতো ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যাংকগুলো অর্থ জমা করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সেবা রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেশে আনার ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন হবে না। তবে এর চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ দেশে আনতে হলে অনলাইনে অনলাইনে ‘সি-ফর্ম’ দাখিল করতে হবে। এছাড়া স্বীকৃত আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত সরাসরি দেশে আনা যাবে, যা অবশ্যই দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) সুবিধার আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই সংরক্ষিত অর্থ তারা আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, ক্লাউড সার্ভার ফি ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের মতো কাজের বৈশ্বিক ব্যয়ে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এই হার ৩০ শতাংশ।
পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধার্থে ইআরকিউ হিসাবের সাথে যুক্ত ডুয়েল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সাথে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ডিজিটাল পেমেন্ট প্রসেসরের মাধ্যমেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় দেশে আনার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।


