২০২৪ সালের ৫ আগস্ট  ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে জনতার পিটুনিতে নিহত হন চাঁদপুরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খান।

প্রায় দুই বছর পর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।  আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে বাবা-ছেলের মরদেহ।

বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ এবং পরে তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।

সেলিম খানের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকিসহ একাধিক মামলা থাকার কথাও জানা যায়।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত মরদেহ ২টি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।