https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানোর ফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশীয় উৎসের গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে জাতীয় গ্রিডে এই প্রাপ্যতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় সরবরাহকৃত মোট গ্যাসের মধ্যে ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এসেছে দেশীয় বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে এবং ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট এসেছে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। অর্থাৎ মোট সরবরাহের মূল অংশই এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে, আর এলএনজির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় ক্ষেত্রগুলো থেকে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ যুক্ত করা হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৫০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সোমবার জাতীয় গ্রিডে মাত্র ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। আর রোববার দৈনিক সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট।
সেই হিসেবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের ফলে সোমবারের তুলনায় ২৬ দশমিক ০৭ কোটি ঘনফুট এবং রোববারের তুলনায় ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট বেশি গ্যাস সংযোগে যুক্ত হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি খাতে সাময়িক স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।


