https://asia24.tv


লিবিয়া ফেরত ১৬৮ জন বাংলাদেশি। ছবি: -সংগৃহীত
লিবিয়ার বেনগাজিতে অবস্থিত গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন ১৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সার্বিক সহায়তায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের (ইউ জেড-২২২) একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় লিবিয়া সরকার ও আইওএমের সহযোগিতায় তাদের এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা অভিবাসীদের একটি বড় অংশ সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় পড়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে গিয়ে তাদের অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি হন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে অপহরণ ও চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। মানবপাচারের ঝুঁকি ও অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের সেই দুর্বিষহ বাস্তবতার অভিজ্ঞতা অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে আইওএমের পক্ষ থেকে দেশে ফেরা প্রত্যেক নাগরিককে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা, জরুরি খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনবোধে সাময়িকভাবে অবস্থান করার জন্য তাদের অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ তাদের যৌথ উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।


