দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বর্তমানের জ্বালানি সংকটকে দেশের সবচেয়ে বড় ও জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিরসনে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বাস্তব রূপ অকপটে স্বীকার করে বলেন, সমস্যা নেই—সরকার এমন দাবি কখনো করছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে নাগরিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিগত স্বৈরাচারী শাসন এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার বা তৈরি করা সমস্যা। তবে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিদ্যমান এই জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে বিশেষ কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন সরকারপ্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে দেশে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজকতা ও কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে, যা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি।

আইনশৃঙ্খলা সুসংহত রাখা এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তারেক রহমান বলেন, জনগণ এই সরকারকে দেশ পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার সবসময় গণতান্ত্রিক চর্চা ও নীতি-নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে। তবে সরকারের গণতান্ত্রিক উদারতার সুযোগ নিয়ে যদি কেউ দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে দেশের প্রচলিত আইনেই তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে তিনি প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রতিনিধিকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও সীমার মধ্যে থেকে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে গোপন চক্রান্তের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। কোনো গুপ্ত শক্তি পরাজিত ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি কোনো দিন কোনো পরিস্থিতিতে গোপন রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে বিএনপি সবসময় রাজপথে থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে সোচ্চার ছিল। তাই অতীতের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দেশের মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছপা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমানোই এই প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার তাগিদ দেন তিনি।

এর আগে আড়ম্বরপূর্ণ এই আলোচনা সভার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। এবার দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সফল আলোচনার মধ্য দিয়েই পাঁচ দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।