বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম, মতপ্রকাশ ও জনপরিসরে আলোচনার সুযোগ বেড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন। তবে দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং ২০২৪ সালের জুলাই পরবর্তী বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিম একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করে।
এই মিশনে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিন কর্মকর্তা গত ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিবেদনের নির্বাহী সারাংশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা, মতপ্রকাশ এবং জনপরিসরে বিতর্কে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিরোধী গোষ্ঠী সভা-সমাবেশ, প্রচার এবং সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। ২০২৬ সালের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ছি এবং নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলটির সাবেক নেতা-কর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ঘিরে অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সাধারণ আদালতে এসব মামলা পরিচালিত হচ্ছে। কিছু ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলেও অন্যরা বিচারাধীন অবস্থায় আটক রয়েছেন।
এদিকে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অনেককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বহু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরোনো মামলাগুলোর পর্যালোচনাও চলছে।
প্রতিবেদনে দুর্নীতি, পুলিশের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিবেদনটি মূলত বিভিন্ন পক্ষের সাক্ষাৎকারের নোট ও তথ্যের সংকলন। এতে অন্তর্ভুক্ত বক্তব্যগুলোকে সব ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকারের নিজস্ব যাচাই করা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়ে প্রতিবেদনেই সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট





মন্তব্য করুন