রাজধানীর সব সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন, তবে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। রাজধানীর কোতোয়ালি দক্ষিণ থানা ইউনিটের দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

 

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে ছিল। এ কারণেই জনগণ দলটির পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার’ মাধ্যমে সেই রায় পরিবর্তন করা হয় এবং জামায়াতকে মূলধারার রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে থাকা বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে জামায়াতকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর পল্টনে জামায়াতের মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন কোতোয়ালি দক্ষিণ থানা আমির মতিউর রহমান। এতে মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মতিঝিল-শাহজাহানপুর রুকন শিক্ষাশিবিরে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নেতাকর্মীদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ত্যাগ স্বীকার করা একজন মুমিনের জন্য নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতোই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ধরনের দলীয় লেজুড়বৃত্তির সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান। এতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এদিকে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জামায়াতই মানুষের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, সিটি করপোরেশনের অনেক সেবা কাগজে-কলমে থাকলেও সাধারণ মানুষ তা যথাযথভাবে পায় না। জামায়াত-সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।

মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৭০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকা উত্তরের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় চার হাজার বাসিন্দাকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করেন।