বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরানোর কথা জানিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ থেকে যাচাই-বাছাইকৃত এসব বাসিন্দা রাখাইন রাজ্যের সাবেক নাগরিক এবং সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের নয় বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযান ও জাতিগত সহিংসতার মুখে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ তোলে। যদিও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিজস্ব স্বীকৃতি না দিয়ে বেআইনিভাবে ‘বাঙালি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের সরবরাহ করা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা। বাকিদের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য শনাক্ত করা যায়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবি অস্বীকার করে জান্তা সরকার জানায়, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল।
এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করায় তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র যুদ্ধ শুরু হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভণ্ডুল হয়ে পড়ে। বর্তমানে রাখাইনের বেশির ভাগ অঞ্চল আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে।
বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক সাহায্য হ্রাস, চরম অর্থনৈতিক সংকট ও প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে।





মন্তব্য করুন