উত্তর আফ্রিকার স্পেনীয় ছিটমহল সেউতায় মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনায় জড়িয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর আগে বহিরাগত সীমান্ত সুরক্ষিত করতে এবং সমন্বিত আইনি পদক্ষেপ নিতে ২২টি সদস্য রাষ্ট্র ইইউ শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছে।
এই সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে অন্যান্য সদস্য দেশের। ইতালি ইতোমধ্যে স্পেনের সঙ্গে মুক্ত যাতায়াতের শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ইতালির পদক্ষেপকে ‘স্বার্থপর ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন শেনজেন সহযোগিতা বাতিলের মতো পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন। তবে বিতর্ক সত্ত্বেও স্প্যানিশ সরকার জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের প্রায় সবাইকে ফেরত পাঠিয়ে সীমান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। দুঃখজনকভাবে, সমুদ্র পারাপারের সময় অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মরক্কোর সীমান্তবর্তী সেউতা ও মেলিলা মূলত ইউরোপের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত। গ্রীষ্মে অভিবাসীরা প্রায়ই সমুদ্রপথে সাঁতরে এ অঞ্চলে ঢোকার চেষ্টা চালায়। তবে সাম্প্রতিক ঢেউটি ছিল সবচেয়ে বড়। এটিকে ‘হাইব্রিড হুমকি’ হিসেবে দেখছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো। অন্যদিকে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এই চিত্রকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত নিতে মরক্কোকে তাগিদ দিয়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সেউতার পানিপথে বিশেষ ইনফ্ল্যাটেবল প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্র্যান্ডে-মারলাস্কা। উল্লেখ্য, স্পেন সরকারের অভিবাসন নীতি অপেক্ষাকৃত শিথিল এবং তারা প্রায় ৫ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে আইনি মান দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এই ঘটনা শেনজেন এলাকার ২৯টি দেশের অবাধ যাতায়াত ব্যবস্থাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মঙ্গলবারের এই বৈঠকে সংকট নিরসনে ইইউ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।





মন্তব্য করুন