https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
বাংলাদেশে স্থানীয় উপস্থিতি বা নিবন্ধিত কার্যালয় ছাড়া ফেসবুক, গুগল ও ইউটিউবের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আর কোনো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না—এমন বিধান রেখে ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শনিবারে জনমত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করা এই নীতিমালায় বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে কর, ভ্যাট এবং প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব পরিশোধের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে পণ্য, সেবা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে বিদেশি ই-কমার্স ও প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) গ্রহণ করতে হবে। নিষিদ্ধ, নকল বা ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করে এমন কোনো বিজ্ঞাপনের প্রচার নীতিমালায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক লেনদেন নিরাপদ করতে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে রপ্তানি বাড়াতে নীতিমালায় একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ‘ক্রস-বর্ডার এসক্রো পেমেন্ট ব্যবস্থা’ চালু এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে দেশীয় কাঠামোর সংযোগ স্থাপন। এর ফলে লেনদেনে ভোক্তা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে পার্সেলভিত্তিক রপ্তানি, বীমা সুবিধা এবং ডিজিটাল রপ্তানিতে প্রচলিত পণ্যের মতো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় ক্রেতা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রিফান্ড নীতি, ওয়ারেন্টি এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। প্রতারণামূলক বাণিজ্য, অনলাইন জুয়া বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য সরবরাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন সমন্বিত কাঠামোর অভাবে দেশ বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও দেশীয় ই-কমার্স খাত গতিশীল হবে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত খসড়াটির ওপর সর্বসাধারণের মতামত সংগ্রহ করা হবে।


