রাজবাড়ী জেলায় কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান হত্যা মামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। আসামিদের বাড়ির আশপাশে জড়ো হয়ে বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা হামলা চালিয়ে কয়েকটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর এলাকার আলাল সরদার, লাল চাঁদ সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
এদিকে, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।
উত্তেজিত জনতা বলেন, আমরা কলেজছাত্র রোহান হত্যার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। রোহান তো কারও সন্তান, কারও ভাই। তার এভাবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই না, রোহানের মতো আর কোনো তরুণকে অকালে প্রাণ হারাতে হোক, আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হয়ে যাক। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং ভবিষ্যতে রোহানের মতো আরও অনেক নিরপরাধ তরুণ হত্যার শিকার হতে পারে। আমরা এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না।
তারা আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, আবার কোনো প্রকৃত অপরাধীও যেন পার পেয়ে না যান। এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি।
নিহত রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে তার ছেলেকে হত্যা করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের যেন ফাঁসি হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে আলাল সরদারের সঙ্গে আমার মনোমালিন্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছিল। আমার ছেলের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য এলাকাবাসী বসেছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, ছোট মানুষ ধাক্কা দিয়েছে, বিষয়টি মীমাংসা করা হোক। কিন্তু অপর পক্ষের কয়েকজন জানিয়েছিলেন, তারা নিজেরা মীমাংসা করবেন না; পক্ষ-বিপক্ষের বিচার করবেন এবং যত টাকা লাগে দিয়ে সুব্যবস্থা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার অভিযোগ, সেই সুব্যবস্থার পরিণতিই হলো আমার ছেলের হত্যা। প্রবাস থেকে টাকা পাঠিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমার ছেলেকে হত্যা করানো হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়জুর রহমান বলেন, ‘রোহান নামের একটি ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তার মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলোতে উত্তেজিত জনতা আগুন দিয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি।’
পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা হত্যার বিচার দাবি করছে। তবে যেসব বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে আগুন যেন আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’





মন্তব্য করুন