রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এ সময়ে নতুন করে ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮২ জন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের মধ্যে ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে নতুন করে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। ওই দিন ১২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পান। দিন শেষে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৩ জন। ওইদিন ডেঙ্গুতে মো. আনোয়ার মন্ডল (৫২) মারা যান। তার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলায়। এর আগের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ২১ মিনিটে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু রোগী আরও বাড়ে। ওই দিন নতুন করে ৩১জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পান ১৮ জন রোগী। ওই দিনে ডেঙ্গুতে মারা যান ১৬ বছর বয়সী সাথী রাণী। তার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়। সাথী রাণী ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বলে হাসপাতালের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ২১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পান ২৭ জন। ওই দিন ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। দিন শেষে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৪ জনে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নতুন করে আরও ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদিন ২৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। একই দিনে আব্দুল করিম (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে।

আব্দুল করিম পেশায় কৃষক ছিলেন। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পোলাডাঙ্গার বটতলা এলাকায়। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল করিমের মৃত্যুর সময় ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিট। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহভাজন ডেঙ্গু মায়োকার্ডাইটিস থেকে সৃষ্ট হৃদ্‌যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দনের কারণে আকস্মিক হৃদ্‌যন্ত্রজনিত মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বিপরীতে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮২ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৭ জন।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহমেদ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এছাড়া আব্দুল করিম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুতে ১০৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন।