কুকুরের কামড়ে সিনথিয়া (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গলায় গভীর ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। একই কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন রাকিব হোসেন (২৬) নামে এক যুবক। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রওজাতুন জান্নাত।
নিহত শিশু সিনথিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর হাটবামুনী গ্রামের সনজু মিয়ার মেয়ে। আহত রাকিব একই এলাকার আকবার আলীর ছেলে। তিনি হোটেল শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল সিনথিয়া। পথে একটি কুকুর তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে গলায় কামড় দেয়। এতে শিশুটির শ্বাসনালীতে গভীর ক্ষত হয়। একই সময় কুকুরটি রাকিবের হাতেও কামড় দেয়।
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা ২ জনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিনথিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। রাকিবকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীক জাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুকুরের কামড়ে সাত বছর বয়সী শিশু সিনথিয়ার মৃত্যু হয়েছে। একই কুকুরের কামড়ে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। কুকুরটিকে মেরে ফেলা হয়েছে।
তিনি জানান, শিশুটির গলায় কামড়ে শ্বাসনালীতে গভীর ক্ষত হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, কুকুরের পাশাপাশি মানুষকেও গণভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা জরুরি। কেননা সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. তানভীর রহমান কল্লোল বলেন, র্যাবিস এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা স্নায়ুতন্ত্র হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তাই মাথার যত কাছাকাছি কামড় হবে, তত দ্রুত সংক্রমণ ঘটতে পারে। এর প্রায় সব ক্ষেত্রেই মৃত্যু অনিবার্য হতে পারে।
তিনি বলেন, র্যাবিস আক্রান্ত প্রাণীর কামড় নিশ্চিত হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুতে হবে। এরপর দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে হবে। ক্ষত গভীর হলে অবশ্যই আরআইজি নিতে হবে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রওজাতুন জান্নাত ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি দপ্তরের প্রধানরা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলার সব কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে একটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে কামড়ায়। আহতদের মধ্যে ৪ জন শিশু। শিয়ালটি তাদের মুখ, ঠোঁট, কপাল ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চলতি বছরের ২২ এপ্রিল একই উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ২৬ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৩ নারী ও ২ পুরুষসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়।





মন্তব্য করুন