https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
প্রযুক্তির বৈপ্লবিক উন্নতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশাল সম্ভাবনাকে ইতিবাচক কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও অপপ্রয়োগ ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির সুফল থেকে দূরে সরে থাকার কোনো উপায় নেই। কিন্তু বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করে ডিজিটাল ব্যবস্থা বা ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণে নিয়োজিত করতে না পারলে, তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতোই গোটা মানবজাতির জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।’
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সংলাপে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করার বিষয়টি এখন আর কেবল টেক্সট বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র দায়িত্ব নয়। এটি পুরো বিশ্বকে এক নতুন কাঠামোর দিকে পরিচালিত করছে।
সামাজিক মাধ্যমের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক রূপ ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফেসবুকসহ জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্ম মূলত বাণিজ্যিক মুনাফার কথা মাথায় রেখে বানানো হয়, জনসেবার জন্য নয়। আমজনতার হাতে সহজলভ্য ইন্টারনেট ও প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ একসাথে মিলে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই পরিবেশের সুবিধা ও ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে আমাদেরই প্রযুক্তির আশীর্বাদকে কাজে লাগানোর পথ বের করতে হবে।
এআই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয়ে তিনি আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে বলেন, অনেক তরুণ ও পেশাজীবী আজকাল নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তির চর্চা বাদ দিয়ে প্রযুক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর হয়ে পড়ছেন। এর ফলে কাজের মৌলিকতা নষ্ট হচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষের দক্ষতা বাড়াবে সত্যি, তবে তা যেন আমাদের ক্ষতির মুখে না ফেলে—সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপস্থিত বুদ্ধির সমন্বয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নের তাগিদ দেন তিনি।
ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যমের আধুনিক রূপান্তর নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের মূলধারার পত্রিকা ও গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের মূল কাজের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া মাধ্যম ব্যবহার করে রাজস্ব আয় করছে। এই পরিবর্তনের সময়ে গণমাধ্যম, রাষ্ট্র এবং সাধারণ অংশীদারদের এক হয়ে সঠিক তথ্যের প্রবাহ ও মান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য রোধ এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করতে আন্তর্জাতিক মহল ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের কৌশলগত ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। সেমিনারে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


