https://asia24.tv


বক্তব্য রাখছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: -সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে আরেকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপ্লব আসন্ন। এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য তিনি সর্বস্তরের দেশবাসীকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী’ উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা না করলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব, তা হতে পারে না। সরকার যদি সময়ের দাবি ও পরিস্থিতি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের পতন ঠেকানো সম্ভব হবে না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, পাপের পরিণতি পেতে কিছুটা সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত পতন অনিবার্য।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরবর্তীতে দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে একধরনের প্রতারণা এবং এটি ফ্যাসিবাদী চর্চারই রূপান্তর। পাশাপাশি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি ফিরে আসছে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতে যারা নির্যাতিত ছিলেন, তারাও যদি বর্তমানে একই রকম স্বৈরাচারী আচরণ করেন, তবে জনগণ তাদেরও ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবেই আখ্যা দেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলার মাটিতে আর কোনো রূপেই ফ্যাসিবাদকে সহ্য করা হবে না। জনমত ও গণরায়কে সম্মান করুন; ইতিহাস বলে, জনগণের রায় অস্বীকার করে কেউ টিকতে পারেনি।”
জাতীয় স্বার্থে ত্যাগের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জাতির মুক্তির জন্য প্রয়োজন হলে আমরা ফাঁসির রশিকেও ফুলের মালা হিসেবে গ্রহণ করব। জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আগামী দিনের প্রতিটি আন্দোলনে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব শ্রেণির মানুষ অংশ নেবে।”
তিনি সন্ত্রাস, অধিকার হরণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদী সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ সারির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।


