https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
গত সমাপ্ত জুলাই মাসে গত ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪.৭২ বিলিয়ন ডলার। তবে এটি একক মাস হিসেবে রেকর্ড হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৯ শতাংশ কম। ইতিবাচক দিক হলো, গত জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।
রপ্তানিকারকরা জানান, প্রতি বছরের জুলাইয়ে শীতকালীন পোশাকের (বিশেষ করে সোয়েটার ও ওভেন পণ্য) শিপমেন্ট বেশি থাকায় আয় সাধারণত বেশি হয়। গত বছরের জুলাইয়ে ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রপ্তানি হয়েছিল, কারণ তখন মার্কিন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি পণ্য পাঠানো হয়েছিল।
ইপিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে চারবার ৪ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে দেশ। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে গত অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর পোশাক খাতের বাইরে অধিকাংশ প্রধান খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক ১.৯৮%, চামড়া ২.৮১%, পাট ও পাটজাত পণ্য ৫৪%, হোম টেক্সটাইল ১৪.৩৭%, পাদুকা ৫.৫২% এবং বিশেষায়িত টেক্সটাইল ৩% বেড়েছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে পোশাক খাতে রপ্তানি হয়েছে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের (৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার) চেয়ে ১.৯২ শতাংশ কম। তীব্র গ্যাস সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের তৈরি পোশাক খাত যে সক্ষমতা দেখাচ্ছে, তাকে আশাব্যঞ্জক মনে করছে সংগঠনটি।
তবে জুলাইয়ের এই সাময়িক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও আগামী মাসগুলো নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। বিশ্ববাজারে চাহিদা হ্রাস, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট এবং পোল্যান্ডভিত্তিক বায়ার ‘এলপিপি’র সঙ্গে পেমেন্ট জটিলতাকে তারা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অনন্ত গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনামুল হক খান বাবলু জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতারা দেশের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এছাড়া পোল্যান্ডের বায়ার প্রতিষ্ঠান ‘এলপিপি’র মাধ্যমে রাশিয়ান ক্রেতাদের কাছে পাঠানো প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের পেমেন্ট বর্তমানে আটকে আছে। এ জটিলতায় তারা বাংলাদেশ থেকে নতুন করে পণ্য না কেনার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
অন্যান্য রপ্তানিকারকরাও সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে বিদেশি বায়াররা তাদের ক্রয়াদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।


