বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিষদ আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করার তাগিদ দেন তিনি। বিশেষ করে চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি ও মৎস্য পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস( যোগাযোগ বাড়াতে উভয় পক্ষ সহমত প্রকাশ করে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য দ্রুত চালুর ওপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব করেন, প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে এটি চালু হলেও উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ চালু এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়, যা পরিবহন ব্যয় কমিয়ে বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ও পরিবেশ অনুকূলে এলে দ্রুত এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। বিপরীতে, বাণিজ্যমন্ত্রী টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অতিদ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উভয় পক্ষ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিতে এবং নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনে একমত পোষণ করেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর ম্যাট লুইন উপস্থিত ছিলেন।





মন্তব্য করুন