গবেষণায় জালিয়াতি, তথ্য বিকৃতি ও অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নাল থেকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদের।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক আবদুল মজিদের দুটি গবেষণাপত্র একই বছরের জানুয়ারিতে বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ‘হিন্দাউই’ প্রত্যাহার করে নেয়। তিনি এসব গবেষণার সহলেখক ছিলেন। প্রত্যাহার হওয়া একটি গবেষণায় দেশে উৎপাদিত শজনে বীজের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি এবং অন্যটিতে সেলুলোজভিত্তিক ন্যানোকম্পোজিটের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে হিন্দাউই তাদের নিজস্ব তদন্ত শেষে জানায়, ল্যাবরেটরিতে কোনো বাস্তব পরীক্ষা-নিরীক্ষা না চালিয়েই মনগড়া তথ্য ও ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি নিরপেক্ষ বিজ্ঞানীদের পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়ায় ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা এবং অর্থ বিনিময়ে ‘পেপার মিল’ চক্রের মাধ্যমে এসব গবেষণাপত্র ক্রয়ের প্রমাণ পায় জার্নাল কর্তৃপক্ষ। যদিও অধ্যাপক মজিদের দাবি, তিনি কেবল ধারণাগত আইডিয়া দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই এগুলো নেওয়া হয়েছে। তবে হিন্দাউই জানিয়েছে, লেখকদের দেওয়া ব্যাখ্যা ছিল অসন্তোষজনক।

যবিপ্রবিতে তাঁর উপাচার্য থাকাকালেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকা মোট ১১টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১০টি এবং সর্বশেষ গত মে মাসে আরও একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। এসব ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন স্বীকার করলেও সাবেক এই উপাচার্য জানান, অনিয়মে অভিযুক্তদের কোনো পুরস্কার বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি দেননি।

সম্প্রতি ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের গবেষকদের অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এলে একাডেমিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। যবিপ্রবি ছাড়াও বুয়েট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নাম এতে জড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সানডিয়েগোর গবেষক নাদিম মাহমুদ মন্তব্য করেন, উন্নত বিশ্বে গবেষণায় চুরি ও অনিয়মকে গুরুতর নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখে একাডেমিক শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই জবাবদিহির সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি।