https://asia24.tv


নৌ-জোটের ১৪ দেশের প্রতিনিধিরা। ছবি: -সংগৃহীত
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি নতুন বহুজাতিক নৌ-সুরক্ষা জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সাময়িক বৈঠক শেষে এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের কথা জানানো হয়। খবর গালফ নিউজ ও আল জাজিরার।
বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম রক্তনালী হিসেবে পরিচিত ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগরগামী এই সমুদ্রপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে জোটভুক্ত দেশগুলো একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওই নীতিনির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিতে মোট ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৩টি দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। বৈঠক শেষে জোটের মূল সনদে স্বাক্ষর করা দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে সই করা থেকে বিরত থেকেছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এমনকি সম্প্রতি তারা সৌদির ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করায় তেল পরিবহন চরম ঝুঁকিতে পড়ে। এমন এক অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপটেই রিয়াদ এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগ সামনে আনল। মূলত বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পরিচালিত হয়, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, এই বহুজাতিক নৌ-জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এটি গঠিত হয়নি। যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে একটি অভিন্ন দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, কৌশলগত অভিযান পরিচালনা, যৌথ সামরিক মহড়া এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। জোটের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সদর দপ্তরটি সৌদি আরবেই স্থাপিত হবে, তবে অন্যান্য দেশের জন্যও পরবর্তীতে জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই জোটে যুক্ত হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।


