https://asia24.tv


চীনের একটি বিমানবন্দর। ছবি: উইকিমিডিয়া। ছবি: -সংগৃহীত
নাগরিকদের বিদেশ যাত্রা এবং প্রবাস থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের ওপর আরও কঠোর বিধিমালা আরোপ করেছে চীন সরকার। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের ওপর বেইজিংয়ের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। খবর বিবিসির।
মঙ্গলবার কার্যকর হওয়া নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানকালে চীনা জাতীয় নিরাপত্তা, ভাবমূর্তি বা স্বার্থের ক্ষতি করেছেন—এমন ব্যক্তিরা দেশে ফিরলে তাঁদের ওপর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পুনর্নির্গমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত আমদানি-রপ্তানি বিধি লঙ্ঘন করলেও যে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদেশযাত্রায় নিষিদ্ধ করা যাবে।
চীনা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্পর্শকাতর প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই আইনি সংস্কার। তাদের বার্তা অনুযায়ী, কোনো সাধারণ পর্যটক বা বৈধ ভ্রমণকারীকে হয়রানি করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। রাষ্ট্রীয় গুজব খণ্ডনকারী প্ল্যাটফর্ম ‘পিয়াও’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন নিয়মটি মানবপাচার, বিদেশে অবৈধ জুয়া ও সাইবার প্রতারণার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ বন্ধে একটি প্রতিরোধমূলক আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
তবে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এশিয়ান ল-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক টম কেলগ বিবিসিকে বলেন, “বিদেশে বসবাসকারী চীনা নাগরিকরা কী বলছেন এবং কী ভূমিকা রাখছেন—তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের হাতে এটি আরেকটি মারাত্মক প্রশাসনিক হাতিয়ার।” তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতেও চীনা সরকারের সমালোচনা করা বা মানবাধিকার ইস্যুতে কাজ করা নাগরিকদের পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি বাতিল করে সরাসরি শাস্তির মুখে ফেলা হয়েছে।
নতুন বিধিমালার অন্যতম জটিল দিক হলো, নাগরিকদের প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ভঙ্গের তকমা দেওয়া। সরকারের মতে, জাতীয় শিল্প বা প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন তথ্য বা উপাদান হাতবদল করলেই প্রবাসীদের দেশে আটকে দেওয়া হবে।
বর্তমানে চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে এমন কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই, যার মাধ্যমে তারা আগাম জানতে পারবেন যে তাদের বিদেশযাত্রায় কোনো আইনি বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না। কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই কেবল বিমানবন্দর অভিবাসন বা পাসপোর্ট নবায়নের সময় নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতে পারেন। যদিও প্রশাসনিক আইনে কারণ দর্শানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বাস্তবে তা প্রয়োগ হয় না। এ নিয়ে চীনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি।


