https://asia24.tv


এলএনজিবাহী জাহাজ। ছবি: -ফাইল ছবি
সারাদেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রতিদিন আরও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকার কারণে দেশের সার্বিক গ্যাস পরিস্থিতি এখন চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিতাস গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ পিএলসি এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহের দৈনিক ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। এ ঘাটতির ফলে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কম থাকবে বলে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
পেট্রোবাংলার সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত একটি এলএনজিবাহী জাহাজ সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় নতুন করে এ মজুত সংকট তৈরি হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সেটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে সামিটের টার্মিনাল একাই সরবরাহ চালু রাখলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্বাভাবিক সময়ে দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ১,০০০ এমএমসিএফডি আরএলএনজি পাওয়া গেলেও, ২৩ জুলাই সরবরাহ নেমে আসে ৫৬৬ এমএমসিএফডিতে। এরপর টানা কমতে কমতে তা বর্তমানে ৪৬৮ এমএমসিএফডিতে ঠেকেছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই গ্যাস সংকটের প্রভাব মারাত্মক রূপ নিয়েছে দেশের শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খাতে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানজট ও গাড়ির অশেষ সারি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাত পড়েছে চরম বিপর্যয়ে। গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা মাঝারি মাত্রায় থাকলেও দৈনিক দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে থাকবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।


