https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
তীব্র কাঁচামাল ও আর্থিক সংকটের মুখে চট্টগ্রামে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ এই বন্ধের সিদ্ধান্তে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চার হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার কারখানা প্রাঙ্গণে টাঙানো ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নোটিশে ১ আগস্ট থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা জানানো হয়। এই আকস্মিক ছাঁটাইয়ের খবরে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে সিদ্ধান্ত কার্যকরের পাশাপাশি কোম্পানির পক্ষ থেকে ছাঁটাইকৃত কর্মীদের বকেয়া ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
গ্রুপটির বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি ও পশুখাদ্যসহ বেশ কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, শুধু সুগার ইন্ডাস্ট্রিজেই প্রায় ৭০০ জন স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। আর সব কারখানা মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক ঋণের সুযোগ বন্ধ হওয়া এবং নতুন করে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় একের পর এক উৎপাদন ইউনিট স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং গত দুই বছরের দীর্ঘ পরিচালনগত সংকটের চূড়ান্ত রূপ। ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও সম্পত্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গুদামে থাকা পুরোনো কাঁচামাল দিয়ে এতদিন উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল। তবে সেই মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালানো আর সম্ভব হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত এক বছর উৎপাদন ব্যাহত হলেও কর্মীদের নিয়মিত মজুরি দেওয়া হয়েছে এবং চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী গ্র্যাচুইটিসহ ৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কর্মীদের বিদায় দেওয়া হচ্ছে।
এমতাবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়া হাজার হাজার শ্রমিক আশা প্রকাশ করেছেন, বৈশ্বিক বা সরকারি সহায়তায় আইনি জটিলতা নিরসন করে পুনরায় কারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাঁরা আবারও তাঁদের জীবিকা ফিরে পাবেন।


