ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর একাধিক ঘাঁটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে পিএমএফের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময় জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

টানা ১৩ দিন পর সম্প্রতি ইরানে বোমাহামলা বন্ধ রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানও জবাবে হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। তবে সেই সাময়িক স্বস্তির পর ফের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতা শুরুর পর এবারই প্রথম প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের যৌথ অভিযানের বিষয়টি সামনে এল। ওয়াশিংটন ও রিয়াদ দাবি করেছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় চালানো ড্রোন হামলার জবাবেই ইরাকের বাগদাদ, বসরা, কিরকুকসহ বিভিন্ন স্থানে পিএমএফের ঘাঁটিতে এ যৌথ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি এ হামলাকে নিজ দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই যৌথ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা সেন্টকম ও জর্ডান সেনা বাহিনী ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি ট্যাংকারেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ প্রসঙ্গে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের আচরণের জন্য ইরানকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি পিএমএফসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে বিশ্বের জন্য ‘ক্যানসার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রতিনিধি উভয় পক্ষকে পূর্বের সমঝোতা বজায় রেখে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওমানের দেওয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরান খারিজ করে দিয়েছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।