ঢাকা
২৮ জুলাই ২০২৬
Advertise with us

ভারত সীমান্তে চীনের যুদ্ধবিমান, তীব্র উত্তেজনা

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬   ০ বার পঠিত
ভারত সীমান্তে চীনের যুদ্ধবিমান, তীব্র উত্তেজনা

স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ভারত সীমান্তে চীনের জে-২০ মাইটি ড্রাগন যুদ্ধবিমান।  ছবি: -সংগৃহীত

ভারতের উত্তর সীমান্ত লক্ষ্য করে পঞ্চম প্রজন্মের পরাক্রমশালী ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। স্যাটেলাইট ইমেজিং সংস্থা ‘ভ্যান্টর’-এর সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে দুটি প্রধান চীনা বিমানঘাঁটিতে কমপক্ষে ১১টি জে-২০ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এতে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, ৯ জুলাই শিনজিয়াংয়ের ‘হোতান’ বিমানঘাঁটিতে সাতটি জে-২০ সারিবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। এই স্থানটি লাদাখের লেহ শহর থেকে ৩৮৯ কিলোমিটার এবং কৌশলগত ভারতীয় ঘাঁটি ‘দৌলত বেগ ওল্ডি’ থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে। দ্বিতীয় চিত্রে তিব্বতের লহাসার ‘দামশুং’ ঘাঁটিতে আরও চারটি জে-২০ দেখা গেছে, যা অরুণাচলের তাওয়াং থেকে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটে সীমান্ত ঘেঁষা ঘাঁটিতে একসঙ্গে এতগুলো জে-২০ এর উপস্থিতি এবারই প্রথম ধরা পড়ল।

অবসরপ্রাপ্ত ফাইটার পাইলট ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নিউস্পেস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সমীর জোশী জানান, এই উপস্থিতি প্রমাণ করে ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম বিমানঘাঁটিগুলো থেকে স্টিলথ ফাইটার পরিচালনা করা চীনা বিমানবাহিনীর জন্য এখন রুটিন কাজে পরিণত হয়েছে। এটি সাময়িক শক্তি প্রদর্শনী নয়; বরং ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য একটি স্থায়ী হুমকি। ফলে ভারতের জন্য কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

জে-২০ এর প্রধান শক্তি এর উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তি, যা সাধারণ রাডারকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। ফলে ফ্রান্স থেকে কেনা ভারতের ‘রাফায়েল’-এর মতো চতুর্থ প্রজন্মের নন-স্টিলথ বিমানগুলোর ওপর চীন বড় ধরনের প্রযুক্তিগত আধিপত্য পাচ্ছে। ভারত নিজস্ব ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (এএমসিএ) তৈরির প্রজেক্ট হাতে নিলেও, তা স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে আরও অন্তত এক দশক সময় লাগবে।

এক দশকের মধ্যে চীন এই বহরের নাটকীয় সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। ২০১৯ সালে চীনের হাতে ৫০টি জে-২০ থাকলেও ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়ায় ১২০টিতে। ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাদের বহরে জে-২০-এর সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-তে পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য চীনের। ভারতের সাবেক এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি চীনের বাণিজ্যিক গতিতে যুদ্ধবিমান তৈরির এই নিখুঁত সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রশংসা করেছেন।

এর আগেও ২০১৬ সালে দাওচেং ইয়াডিং এবং ২০২৪ সালে সিকিম সীমান্তের কাছে শিগাতসে ঘাঁটিতে জে-২০ দেখা গিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের বিমান প্রতিরক্ষাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ভারতের হাতে এখন মাত্র ৩৬টি রাফায়েল এবং ২৬০টির বেশি পুরোনো সুখোই-৩০ এমকেআই রয়েছে, যা আধুনিকীকরণের অপেক্ষায়। চীনের এই দ্রুত অগ্রগতির বিপরীতে নিজস্ব স্টিলথ প্রযুক্তির অভাব ভারতকে কৌশলগতভাবে বেশ পিছিয়ে রাখছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa