https://asia24.tv


উচ্চ আদালত। ছবি: -ফাইল ছবি
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা বিষাক্ত কণা শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী। ঘটনাটি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদন দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
রিটকারী আইনজীবী জানান, তিনি প্রাথমিকভাবে বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চান। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনস্বার্থে এসব ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদানযুক্ত পণ্য দ্রুত বাজার থেকে প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার জন্য আবেদন জানাবেন তিনি।
এর আগে রবিবার (২৬ জুলাই) লালমাটিয়ায় প্রধান কার্যালয়ে পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)’ এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে। ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়, ২৬টি নমুনায় প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। সংগৃহীত শিশুদের ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মেলে এই বিপজ্জনক উপাদান।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও বিক্রিত ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’ সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এছাড়া ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘মেন্থল ফ্রেশে’ ১৬০টি, ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ডে’ ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা শনাক্ত করা হয়।
তালিকায় থাকা ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ ৮০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস’ ও শিশুদের ‘মেরিল বেবি’তে (স্ট্রবেরি) ৬০টি করে কণা মিলেছে। এছাড়া ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও শিশুদের ‘মেরিল বেবি’র (অরেঞ্জ) মতো টুথপেস্টে ৪০টি করে এবং ‘ডেন্টিন জেল’ ও ‘পেপসোডেন্ট কিডসে’ ২০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।
ইচ্ছাকৃতভাবে টুথপেস্টে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক কণার ব্যবহার মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


