পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভের জেরে দুই মাসের এক নিষ্পাপ শিশু হত্যার অভিযোগে শিশুটির বাবা হৃদয় খানকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোক, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর দারুস সালামে দুই মাস বয়সী মেয়ে সাবিহা ইসলাম রোজাকে গলা টিপে ও মারধর করে গুরুতর জখম করে হত্যা করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুর পর থেকে পলাতক ছিলেন তিনি। রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় এলাকা থেকে র্যাব-৪ ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) র্যাব-৪-এর মিডিয়া অফিসার নুরাঙ্গীর নাহিদ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে গত ২২ আগস্ট রাতে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয় বলে মামলার এজাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
র্যাব জানায়, হৃদয় খানের সঙ্গে লাভনী আক্তারের (১৯) বিয়ে হয় গত বছরের ২ জুলাই। এটি হৃদয়ের দ্বিতীয় বিয়ে। তারা রাজধানীর দারুস সালাম থানার গৈদারটেক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ১১ জুন তাদের মেয়ে সাবিহা ইসলাম রোজার জন্ম হয়।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, গত ২২ আগস্ট রাতে শিশুটির মা ও মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে পারিবারিক কলহের জেরে হৃদয় শিশুটিকে গলা টিপে ও মারধর করে গুরুতর জখম করেন। এরপর তিনি পালিয়ে যান।
পরদিন সকালে শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান তার মা। পরে দ্রুত তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) ১৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর শিশুটি মারা যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা লাভলী আক্তার বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।
র্যাব জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পলাতক আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৪-এর কাছে সহায়তা চান। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪ ও র্যাব-১০-এর যৌথ দল যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হৃদয় খানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।





মন্তব্য করুন