নাইজেরিয়ায় এক ভয়াবহ সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটেছে। এতে বিমানটিতে থাকা ২৫ জন যাত্রী এবং ৭ জন পাইলট-ক্রুর সবাই নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো নাইজেরিয়াসহ বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল ৫ অক্টোবর সোমবার পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওন্দো রাজ্যে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ বিবৃতি দিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু।

বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট তিনুবু বলেছেন, “এ দুর্ঘটনার ব্যাপারে বিমান বাহিনীর প্রধান আমাকে অবহিত করেছেন। কী কারণে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, তা জানতে আমি বিমানবাহিনীকে এ বিষয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ তদন্ত যত শিগগির সম্ভব শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে— সেজন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিতে বলেছি।”

নাইজেরিয়ার বিমান চলাচল বিষয়ক মন্ত্রী ফেস্টাস কিয়ামো জানিয়েছেন, বিমান বাহিনীর একটি এটিআর-৪২ উড়োজাহাজ বেনিন সিটি থেকে লাগোসে যাওয়ার পথে একটি নিয়মিত মিশনে ছিল; সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরবর্তীতে উপকূলীয় শহর ইগবোকোদার কাছে—একটি নৌ-ঘাঁটির সন্নিকটে—বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায় এবং সেখানে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছিল।

দুর্ঘটনাস্থল সম্পর্কে স্থানীয়রা অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘মিরর ডট কো ডট ইউকে’ জানান যে, বিমানটি একটি নদীর কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিমানটি আছড়ে পড়ার সময় তারা বজ্রপাতের মতো বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলে মৃত-ছিন্নভিন্ন যাত্রীদের দেহের বিভিন্ন অংশ, পোশাক ও জুতার মতো ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার আগে ।

এ দুর্ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ায় ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স