বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিজ ফুফুর ঘর থেকে শিশু তায়িফা সুলতানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় শিশুটির ফুফু নার্গিস সুলতানাকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক বাজারসংলগ্ন ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তায়িফা সুলতানা ওই এলাকার ইলিয়াস খানের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল থেকে তায়িফাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা ইলিয়াস খান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

পরে শিশুটির পরিবারের বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে নার্গিস সুলতানাকে তায়িফাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে একটি বাক্সের ভেতর শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নার্গিস সুলতানা ভাতিজিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের এক সদস্যের ভাষ্য, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নার্গিস সুলতানা তার ভাই ইলিয়াস খানের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। পরিবারের ধারণা, শিশুটির মায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে নার্গিস সুলতানার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে নার্গিস সুলতানার কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।