টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের সামনে প্রায় ৪২১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিকল্প উৎসের দিকে এগোচ্ছে সরকার।

বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এসডিজিবিষয়ক সম্মেলনের সমাপনী দিনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “প্রচলিত সরকারি অর্থায়নের (পাবলিক ফাইন্যান্সিং) সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে অর্থায়নের কাঠামো বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশও ক্যাপিটাল মার্কেট, বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার ও নতুন আর্থিক প্রডাক্টের মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।” পাশাপাশি কর-জিডিপি অনুপাত বা অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী স্পষ্ট করেন যে, এসডিজি অর্জনে কোনো ধরনের তথ্য বা উপাত্তের কারসাজি বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, “অতীতে বাস্তবতার সঙ্গে পরিসংখ্যানে ব্যাপক ফারাক দেখা গেছে। আমরা নির্ভুল তথ্য ও প্রকৃত সামাজিক চিত্র জেনে সেখান থেকেই দেশের অগ্রগতি পরিমাপ করতে চাই।”

অনুষ্ঠানে দলিত, হিজড়া ও মান্তা সম্প্রদায়ের প্রান্তিক মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকা ও সরকারি সেবা পাওয়ার বিড়ম্বনার কথা উঠে আসে। সিডিপির সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে সরকারের গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলো তদারকির তাগিদ দেন। তিনি জানান, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’ ও ‘ম্যানিফেস্টো ওয়াচ’-এর মাধ্যমে সরকারের এসডিজি ও সংস্কার কর্মসূচির নিয়মিত নজরদারি করা হবে।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সরকার, নাগরিক সমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে সম্মেলনটি শেষ হয়।