দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চাল রপ্তানিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পূর্বে দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা ও সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রকৃত রপ্তানির সঠিক তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত দুই মাসের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে চিনিগুড়াসহ বিভিন্ন সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকা থেকে লাফিয়ে ২৩০ টাকায় পৌঁছেছে। খুচরা বিক্রেতাদের মতে, বাজারে চালের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। নির্দেশনায় বলা হয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় পূর্বের রপ্তানি কোটা কাটছাঁট করা প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত কোটার পুরো চাল রপ্তানি করতে পারেনি, মূলত তাদের অব্যবহৃত কোটা বাতিল বা কমানো হবে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।

এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত ২ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—দেশের ১০টি বড় চালকলের মালিক বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছেন। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কারণেই দাম এমন লাগামহীন হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বাজার অস্থিরতা সামাল দিতেই কোটা কমানোর কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।