প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে অবস্থান করার পর নিজ দেশে ফিরে দুর্নীতি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সহকর্মীদের তীব্র ধিক্কারের মুখে পড়েছেন নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। নেপালি কংগ্রেসের সাবেক এই শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে দলটির ভেতরে নতুন করে দেখা দিয়েছে তীব্র কোন্দল ও নেতৃত্ব সংকট।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) দেউবা দেশে ফেরার পর তাঁর অনুসারীরা তাঁকে পুনরায় দলের সভাপতি পদে পুনর্বহাল করে তাঁর অধীনেই ১৫তম সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের জোর প্রস্তাব দেন। তবে দলটির একটি বড় অংশ দেউবাকে আর কোনোভাবেই নেতৃত্বে দেখতে রাজি নয়।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল নেপালের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে গগন থাপার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে নেপালি কংগ্রেসের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আদালত সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করায় দেউবা-ঘনিষ্ঠ নেতারা এই সুযোগে দেউবাকে আবার সামনে আনার চেষ্টা করছেন।

দেউবার ঘনিষ্ঠ জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ শরণ মহাত বলেন, দলের বর্তমান বিরোধ নিরসনে দেউবার নেতৃত্বকে গ্রহণ করে সম্মেলনের দিকে এগোনোই সেরা পথ। তিনি বিতর্কিত বিশেষ সম্মেলনকে একটি ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, আদালত পুনর্বিবেচনায় রাজি হওয়ায় অন্য পক্ষ সম্মত থাকলে দেউবার নেতৃত্বেই দলকে এক ছাতার নিচে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তবে দলটির বিরোধী শিবিরের কঠোর অবস্থান ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মতো আইনি জটিলতা কাটিয়ে দেউবা কতখানি দলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারবেন, তা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে।