ঢাকা
১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত কমিটি জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে আগস্টে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার রাষ্ট্রপতি পদে ২ প্রার্থীর ৩টি মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট সিদ্ধান্ত জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: মাহদী আমিন ভারতসহ সব দেশ সফরের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফ্রান্সকে মানবাধিকার নিয়ে ‘জ্ঞান দেওয়া’ বন্ধ করতে বলল ইরান ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও পুনর্গঠনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে এডিবি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩ মনোনয়নপত্র জমা, প্রার্থী মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ শাহবাগে চালু হলো আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরিতে লাগবে অনুমতি, নির্ধারিত হবে কারখানা
Advertise with us

‘আদিবাসী’ নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান জাতীয় আদিবাসী পরিষদের

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬   ১৭ বার পঠিত
‘আদিবাসী’ নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান জাতীয় আদিবাসী পরিষদের

ছবি: -সংগৃহীত

বাংলাদেশে কোনো ‘আদিবাসী গোষ্ঠী নেই’ এবং এ দেশের প্রেক্ষাপটে শব্দটি ‘অপ্রাসঙ্গিক’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের এমন সাম্প্রতিক যৌথ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। বিতর্কিত এ বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতিগত সত্তাকে সরাসরি অস্বীকার করার শামিল।

বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিচিত্রা তির্কি ও সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান এই প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে আদিবাসী পরিচয় নিয়ে যেকোনো ধরনের অপরাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান তাঁরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত বৈচিত্র্যের এক অনন্য ভূখণ্ড। বাঙালি ও আদিবাসী উভয়েই এ দেশের সমান মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সবাইকে ঢালাওভাবে একই পরিচয়ে চিহ্নিত করার চক্রান্ত প্রান্তিক আদিবাসীদের মৌলিক অস্তিত্বের জন্য এক চরম হুমকি।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়, ‘সকলে বাংলাদেশের অধিবাসী হলেও বাঙালিরা আদিবাসী নন এবং আদিবাসীরাও বাঙালি নন। আদিবাসী পরিচয় বহু কাল আগে থেকেই এ দেশের প্রাচীন জাতিসত্তার মানুষরা গৌরব ও অধিকারের সাথে ধারণ করে আসছে।’ আদিবাসী পরিষদ স্মরণ করিয়ে দেয়, কেবল উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগসহ সিলেট ও খুলনায় সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাওঁ, বেদিয়া, কুর্মি, পাহাড়িয়া, মাহালী ও কোচের মতো ৩৮টিরও বেশি জাতিসত্তার ৩০ লাখের বেশি আদিবাসী মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করছেন।

ঐতিহাসিক ও আইনি উদাহরণ তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘পাহাড়পুর আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়’সহ উত্তরবঙ্গেই ৬৫টির বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ‘আদিবাসী’ শব্দটি যুক্ত রয়েছে। তা ছাড়া ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের বাণীতে লিখেছিলেন—‘আমাদের জনগোষ্ঠীরই একটি অংশ আদিবাসী।’ এমনকি ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ আদিবাসীদের সুরক্ষার কথা স্পষ্ট রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই, সবাই অভিন্ন ‘বাংলাদেশি অধিবাসী’। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও ‘আদিবাসী’ শব্দটিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন। মন্ত্রীদের এই মন্তব্যে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আদিবাসী পরিষদ অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির জোর দাবি জানিয়েছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa