https://asia24.tv


তীব্র দাবানল পুড়িয়ে দিচ্ছে বনের পর বন। নেভানোর চেষ্টা। ছবি: -সংগৃহীত
অনিয়ন্ত্রিত দাবানলে ইউরোপজুড়ে চরম আতঙ্ক ও বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বোর্দোর দিকে দাবানল ধেয়ে আসায় আজ সোমবার (২৭ জুলাই) জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তীব্র তাপদাহ ও বাতাসের কারণে আগুন এখন সাড়ে আট লাখ বাসিন্দার শহর বোর্দো থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স ও স্পেনে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাসে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। ফ্রান্সে দাবানলের কারণে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ বা ফায়ার থান্ডারস্টর্ম, যা নিজস্ব বাতাস ও বজ্রপাতের মাধ্যমে আগুনকে তীব্র করে তুলছে।
ফরাসি ন্যাশনাল ফায়ারফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্ডি বলেন, ‘আগুনের গতিপথ প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। সরাসরি গিয়ে এটি নেভানো সম্ভব নয়। এটি এখন ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই।’ কেবল ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে বৃহত্তম বন উজাড়ের ঘটনা।
এদিকে স্পেনের পূর্ব উপকূলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে ইতোমধ্যে ৭৭ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় দাবানল বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় আসছে।’ তিনি জরুরি ভিত্তিতে জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বড় সরকারি চুক্তির আহ্বান জানান। অন্যদিকে, স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ একে দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মাদ্রিদ ও অ্যাভিলা অঞ্চলে বাতাসের কারণে আগুন ক্রমাগত ছড়াচ্ছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা চরম মানসিক ধাক্কা ও অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ইউরোপীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, টানা কয়েকদিন মুষলধারে বৃষ্টি না হলে এই আগুন থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।


