https://asia24.tv


গ্যাসের অভাবে জ্বলছে না চুলা (প্রতীকী ছবি)। ছবি: -ফাইল ছবি
ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দেশে চলমান গ্যাস সংকট এখনই কাটছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংকট আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত মঙ্গলবার আগুন লাগার পর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটির একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রূপান্তর প্রক্রিয়া থমকে গেছে। যুক্তরাজ্য ও আরব আমিরাতের বিশেষজ্ঞ দল মেরামত কাজ চালালেও এখনো তা চালুর উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। কারিগরি দল কাজ শেষ না করা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
দেশে দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সাধারণত ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে তা ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, মোট চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ নির্ভর করে এলএনজির ওপর। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে—প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলা প্রায় বন্ধ। ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক বা লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছেন। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা মোহাম্মদপুরে মানববন্ধনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের স্বল্পচাপ বজায় থাকবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, দেশি গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস এবং এলএনজি নির্ভরতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প হিসেবে স্থলভাগে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের তাগিদ দেওয়া হলেও তা না করায় আজ এমন সংকট তৈরি হয়েছে।


