https://asia24.tv


সৌদি আরবের শহরে হুথির হামলা। ছবি: -সংগৃহীত
সৌদি আরবের তিনটি শহরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাত হেনেছে। সোমবারের এই সমন্বিত হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, সোমবার দেশের খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফ শহরকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালায় হুথিরা। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের আঘাতের মাত্রা মৃদু থেকে মাঝারি পর্যায়ের। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাতটি বসতবাড়ি ও দুটি ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুখপাত্র আল-মালকি হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও তাদের অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তোলেন। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আত্মরক্ষার মৌলিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের যেকোনো আক্রমণ কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হামলার ঘটনার পরপরই সৌদি আরবের জেনারেল সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট থেকে জেদ্দা, ইয়ানবু, তাইফ, আবহা, জাজান এবং আল-উলা—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ‘সম্ভাব্য বিপদের’ জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে জানানো হয় বিপদ কেটে গেছে। জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় না করতে এবং ভিডিও ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করেন, সৌদির এই ঘটনার আগে গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান। তিনি জানান, এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পরিচালিত এসব আগ্রাসনের পাল্টা জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের সানা ও বেশ কিছু অঞ্চল হুথিরা দখলের পর থেকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে মাঠে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোট। দীর্ঘদিন রক্তক্ষয় থামার পর চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সীমান্ত ও দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক সশস্ত্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে।


