https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে। ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করা হয়েছে।
কমিটির মূল দায়িত্ব হবে পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ তৈরি করা। প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা দ্রুতই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে, যদিও কার্যকর করার সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বড় অঙ্কের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সরকার পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত না রেখে ধাপে ধাপে তা কার্যকরের পথ খুঁজছে।
২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল চালুর পর আর নতুন কাঠামো আসেনি। মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জমা পড়া কমিশন প্রতিবেদনে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২১ এপ্রিল পে স্কেলের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের যে বিপুল বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ হবে, তা সামলাতে রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দিতে হবে।
প্রস্তাবটি কবে মন্ত্রিসভায় উঠবে এবং কী প্রক্রিয়ায় নতুন স্কেল কার্যকর হবে—সেদিকেই এখন গভীর নজর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।


