https://asia24.tv


প্রতিকী ছবি ছবি: -সংগৃহীত
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি ও কর্মস্থল ত্যাগ ঠেকাতে জিপিএস-ভিত্তিক ‘জিওফেন্সিং’ প্রযুক্তি গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে এই প্রযুক্তি। এর রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হবে বেতন-ভাতা, ছুটি এবং পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
জিওফেন্সিং এমন একটি প্রযুক্তি, যা জিপিএস বা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো সীমানা বা ভার্চ্যুয়াল গণ্ডি তৈরি করে। কোনো ব্যক্তি বা ডিভাইস এই গণ্ডির বাইরে গেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়ে যায়।
জানা গেছে, গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং ২৫ আগস্ট এ বিষয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সভায় সরকারি হাসপাতালের প্রধানেরা জানান, শুধু বায়োমেট্রিক পদ্ধতি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ, অনেকে সকালে হাজিরা দিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে বাইরে চলে যান। এই তদারকি জোরদার করতেই জিওফেন্সিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থাটি কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকির জন্য একটি ‘রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড’ তৈরি এবং হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রোগীরা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার পাবেন না—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
এরই আলোকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক হাজিরা শতভাগ সচল করা এবং জিওফেন্সিং চালুর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেরা এবং সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে পুরস্কার ও শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাস চন্দ্র বিশ্বাস জানান, উপস্থিতির বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রধানদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক তদারকির ফলে অনেক হাসপাতালে ইতিবাচক উন্নতি দৃশ্যমান। তবে জিওফেন্সিং চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি কারিগরি বিষয়। পদ্ধতিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’


