চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জিটুজি বা সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় বিশ্ববাজার থেকে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে মোট ছয়টি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। বুধবারে সচিবালয়ে আয়োজিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম বৈঠকে এই আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্রয় কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্পকারখানা এবং কৃষি খাতের সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে এই পরিশোধিত তেল আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির প্রচলিত দাম, আমদানির পরিমাণ ও নির্ধারিত প্রিমিয়াম বিবেচনা করে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এই তেল সংগ্রহ করা হবে।
একই বৈঠকে দেশের অবকাঠামো, কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতের আরও কয়েকটি বড় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে বগুড়া জেলায় ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও মেসার্স আহাদ বিল্ডার্সকে। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষিসারের মসৃণ সরবরাহ বজায় রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বাফার গুদাম নির্মাণের জন্য ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।
বিদ্যুৎ খাতের দর পুনর্নির্ধারণের অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয়ের সংশোধিত লেভেলাইজড ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৫.০২৮১ টাকা। পাশাপাশি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের যোগাযোগ ও শক্তি অবকাঠামো শক্তিশালী করতে দুটি বড় ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নতুন সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরিতে ১২২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং পাওয়ার নেটওয়ার্ক গঠনে ২১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা খরচ করা হবে। একই সঙ্গে এই মেগা প্রকল্পের গতি ধরে রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ কনসালটেন্সি সেবার চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়ে নতুন চুক্তিমূল্য ৮৯.৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।




মন্তব্য করুন