বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য রোধসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্দালিভ রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও বেশি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্যিক পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছ এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত জানান, আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনসংখ্যার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে বিশেষ সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন সরকারের এই সদিচ্ছার উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের রাজনৈতিক সংবাদ ও মতামত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করার সিদ্ধান্তটি উল্লেখ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার বাকস্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের অধিকার এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। তবে গণমাধ্যমের এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা প্ল্যাটফর্মে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানিকর বক্তব্য, ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মিথ্যাচার এবং ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ভয়াবহ বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সময় সকল সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা টেনে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে স্বাধীন বাকস্বাধীনতার অভিজ্ঞতা ভালো না হলেও নতুন সরকার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে দেশ গঠনে কাজ করছে। বিতর্কিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্বাধীন গণমাধ্যমকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো বন্ধে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অপতথ্যের প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।




মন্তব্য করুন